ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার গাইডলাইন ২০২২

অনলাইনে ইনকাম এর ভেতরে ইউটিউব থেকে আয় ট্রেন্ডিং এ রূপান্তরিত হয়েছে। ইউটিউব থেকে খুব দ্রুত সময়ে অনলাইনে টাকা আয় করা সম্ভব। সেই সাথে একটা ইউটিউব চ্যানেল থেকে স্মার্ট ইনকাম/ভালো পরিমাণ অনলাইন ইনকাম করা সম্ভব। অনেকেই একটি ইউটিউব চ্যানেল এর মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। আবার এমন ব্যক্তি অনেক আছেন যারা ইউটিউব এর ইনকাম দিয়ে কোটিপতি হয়ে গেছেন।

আজকের এই পোস্টে আমরা আলোচনা করব কিভাবে আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল থেকে অনলাইনে টাকা আয় করবেন। আপনারা যদি ইউটিউবে নিজের ক্যারিয়ার গড়তে চান বা অনলাইনে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে চান, তাহলে এই আর্টিকেলটি আপনার জন্যই আমাদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।

ধৈর্য ধরে সম্পূর্ণ ” ইউটিউব থেকে আয়” “Step by Step Guide How To Earn From Youtube Bangla” পোস্টটি পড়লে হয়তোবা আপনিও একজন সফল ইউটিউবার অনলাইনে সফল ব্যক্তিত্ব হয়ে উঠতে পারেন।

ইউটিউব থেকে আয় করার গাইডলাইন
ইউটিউব থেকে আয় করার গাইডলাইন

কেন ইউটিউবে আয় করবেন? (Why Earn From YouTube?)

আপনার যদি প্যাসিভ ইনকামের প্রতি আগ্রহ থাকে, তাহলে ইউটিউব হতে পারে আপনার জন্য সহজ একটি উপায় প্যাসিভ ইনকাম করার জন্য। ইউটিউব ইনকমে অনেক সুবিধা রয়েছে যে সুবিধাগুলো অনলাইনে বা অফলাইনে অন্য কোন জায়গাতে পাবেন না।

  • ইউটিউব থেকে আয় সিস্টেমটি প্যাসিভ ইনকাম হওয়ায় এখানে কোন টাকা ইনকামের লিমিটেশন নেই। এখানে আপনি প্রচুর পরিমাণে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। যা আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিউজ এর উপর নির্ভর করবে।
  • একটি ইউটিউব চ্যানেল আপনি ফ্রিতে খুলতে পারবেন। এর জন্য আপনাকে কোন টাকা কাউকে দিতে হবে না। একটি জিমেইল একাউন্টের মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই ইউটিউব ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার নিজস্ব একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারবেন।
  • একটি ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করা খুবই সহজ। এর জন্য কোন ডেভলপমেন্ট ও প্রোগ্রামিং ভাষা শেখার কোনো প্রয়োজন নেই। যেমন একটি ওয়েবসাইট চালাতে গেলে আপনাকে বেসিক ওয়েব ডিজাইন বা কোডিং জানতে হবে সাইটটি ভালোভাবে পরিচালনা করার জন্য। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেল পরিচালনা করতে এসবের কোনো প্রয়োজন নেই।
  • এখানে আপনি নিজেই বস। আপনাকে কথা বলার কেউ নেই। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ইনকামে কেউ হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।
  • আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি আপনি স্বাধীন ভাবে পরিচালনা করতে পারবেন। এর জন্য আপনার কোন নির্দিষ্ট সময়ে বা নির্দিষ্ট কোন টপিক ধরা-বাধা কোনো নিয়ম নেই।
  • আরো অনেক কিছু আছে যেগুলো আপনি ইউটিউব চ্যানেল খুললে বা একটা পর্যায়ে গেলে আপনি বুঝতে পারবেন।

ইউটিউবে আয় করতে কি কি লাগে?

ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে হলে আপনাকে নিয়মিত পরিশ্রম ও ধৈর্য ধারণ করে কাজ করতে হবে। ইউটিউব ইনকাম এ আসা একটু কঠিন কিন্তু একবার ইনকাম শুরু হয়ে গেলে আপনি কাজটি করার জন্য অনুপ্রাণিত হবেন এবং টাকাও আয় করতে পারবেন। তো চলুন জানি ইউটিউব থেকে আয় করার জন্য কি কি লাগে।

একটি ইউটিউব চ্যানেল

ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার জন্য আপনাকে ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করতে হবে। ইউটিউবে ভিডিও আপলোড করার জন্য আপনার নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে হবে। এবং সেই চ্যানেলটি খুব সুন্দর ভাবে কাস্টমাইজেশন করতে হবে যাতে দেখতে প্রফেশনাল লাগে।

প্রফেশনাল ইউটিউব চ্যানেল হলে দর্শকরা সহজে গ্রহণ করবে এবং আপনার প্রতি খুব দ্রুত বিশ্বস্থতা তৈরি হবে। যা আপনার ইউটিউব চ্যানেলের সফলতার পেছনে ভালো ভূমিকা রাখবে।

অবশ্যই দেখুন: 

কিভাবে ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করবেন? (Create YouTube Channel)

  • ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা খুবই সহজ। ইউটিউব ওয়েবসাইটে গিয়ে জিমেইল দিয়ে লগইন করে ডান পাশে “জিমেইল আইকনে” ক্লিক করতে হবে।
  • তারপর “Create a channel” লেখাতে ক্লিক করে, আপনার চ্যানেল নাম দিয়ে, আবার
  • “Create a channel” ক্লিক করুন, তাহলে আপনার ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করা হয়ে যাবে।
  • এখন আপনার ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করতে হবে। ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করার জন্য ইউটিউব চ্যানেল ড্যাশবোর্ডে গিয়ে ডান পাশে “Verify” লেখাতে ক্লিক করতে হবে। সেখানে আপনার ফোন নাম্বার দিয়ে খুব সহজেই আপনার ইউটিউব চ্যানেল ভেরিফাই করে নিন।

ভিডিও (Upload YouTube Video)

ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা আয় করতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিও আপলোড করতে হবে। ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওতে আপনি গুগল এড ব্যবহার করে, অ্যাফিলিয়েট বা অন্যান্য অনলাইন ইনকাম প্রক্রিয়া ব্যবহার করে ইউটিউব চ্যানেল এর ভিডিও থেকে টাকা আয় করতে পারবেন।

অবশ্যই আপনাকে ইউটিউবে কোয়ালিটি সম্পন্ন ভিডিও তৈরি করতে হবে আপনি যে টপিক নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করবেন। কোয়ালিটি ভিডিও ছাড়া আপনি মার্কেটে টিকতে পারবেন না এজন্য অবশ্যই ইউটিউব থেকে টাকা আয় করার চিন্তা থাকলে ইউটিউব ভিডিও তে কোয়ালিটি মেইনটেইন করে খুব ভালো মানের ইউটিউব ভিডিও তৈরি করতে হবে।

ইউটিউবের ভিডিও তৈরি করার ৭টি বিষয়

এই পোস্টে ইউটিউবে ভিডিও করার কিছু বিষয় আমি শেয়ার করব। এই ভিডিওগুলো তৈরি করার মাধ্যমে ইউটিউব থেকে ভালো পরিমান ভিউসসহ ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করা সম্ভব। কেননা এই বিষয়গুলোর প্রতি মানুষের বর্তমান সময় আগ্রহ অনেক বেশি।

মোবাইল রিভিউ

আমরা সবাই মোবাইল ফোন কেনার আগে অনলাইনে একবার হলেও সার্চ করে দেখি সেই মোবাইল সম্পর্কে জানার জন্য। বাংলাদেশসহ প্রায় প্রত্যেক দেশেই মোবাইল রিভিউ ভিডিওগুলো প্রচুর পরিমাণে ভিউস পেয়ে থাকে।

আপনি চাইলে মোবাইল রিভিউ নিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। মোবাইল রিভিউ ভিডিও থেকে দুই ভাবে ইনকাম করা সম্ভব একটি হচ্ছে গুগল এডসেন্সের মাধ্যমে এবং আরেকটি হচ্ছে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে।

তাই আপনার যদি ইউটিউব চ্যানেল চ্যানেল থেকে অল্প পরিশ্রমে বেশি টাকা আয় করার ইচ্ছা থাকে তাহলে আপনি মোবাইল রিভিউ বিষয়টি বেছে নিতে পারেন ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করার জন্য।

টেকনোলজি

বর্তমান সময় হচ্ছে টেকনোলজির সময়। টেকনোলজির ভিডিও অনলাইনে প্রচুর পরিমাণে দেখা হয়ে থাকে।

আরেকটি ভালো বিষয় হচ্ছে টেকনোলজির ইউটিউব ভিডিও গুলিতে গুগল এডসেন্সের হাই সিপিসি এড গুলো দেখিয়ে থাকে। যার দ্বারা টেকনোলজি ভিডিওতে অল্প বয়সে বেশি টাকায় হয়ে থাকে।

বর্তমান সময়ে টেকনোলজি খুব জনপ্রিয় বিষয় হয় আপনার ইউটিউব চ্যানেল টা খুব দ্রুত সময়ে জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। একটি ইউটিউব চ্যানেল একবার জনপ্রিয়তা পেয়ে গেলে আপনি ইউটিউবে সফল হয়ে যাবেন।

অনলাইন ইনকাম

বর্তমান সময়ে কেন অনলাইনে ইনকাম করতে চাই। আপনি ইউটিউবে একটি বিষয়ে সার্চ করে দেখতে পারেন অনলাইন সম্পর্কিত ভিডিও গুলোতে প্রচুর পরিমাণে ভিউজ এবং কমেন্ট হয়ে থাকে। কেননা বর্তমান সময়ে অনলাইন ইনকাম একটি ইন্টারেস্টিং বিষয় অনলাইনে।

আপনি যদি অনলাইনে ইনকাম সম্পর্কে অভিজ্ঞতা থাকে তাহলে আপনি একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে সেটাতে অনলাইন ইনকাম সম্পর্কিত ভিডিও তৈরি করে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করতে পারবেন।

ব্লগিং টিপস্

ব্লগিং অনলাইন এর একটি অংশ। অনলাইন ইনকাম করার মধ্যে সহজ এবং স্মার্ট অনলাইন ইনকাম হচ্ছে ব্লগিং। ব্লগিং এর প্রতি মানুষ বর্তমানে অনেক ঝুকছে। আপনি ব্লগিং সম্পর্কিত ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করে নিয়মিত ইউটিউব ভিডিও সাথে খুব দ্রুত সময়ে সফলতা পেতে পারেন।

আরও দেখুন: 

অ্যাপ রিভিউ

গুগোল সহ ইউটিউব সার্চ ইঞ্জিনে প্রচুর পরিমাণে অ্যাপ রিভিউ সার্চ হয়। আমি আমার মোবাইলে কোন অ্যাপস ইনস্টল করার আগে ইউটিউবে সার্চ করে দেখিস এই অ্যাপসের রিভিউ।

এরকম অনেক লোক রয়েছে যারা গুগোল ইউটিউব অ্যাপস রিভিউ দেখে থাকে। আপনি চাইলে অ্যাপস রিভিউ নিয়ে একটি ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করতে পারেন। এবং যদি নিয়মিত কোয়ালিটি সম্পন্ন ভিডিও দিতে পারেন তাহলে অল্প সময়ে চ্যানেল থেকে ভালো কিছু করতে পারবেন।

ফুড ভিডিও

আপনি যদি রান্না-বান্নায় পারদর্শী হয়ে থাকেন। তাহলে আপনি ইউটিউবে রান্না সম্পর্কিত একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন। এবং আপনার রান্না করার অভিজ্ঞতা ইউটিউব ভিডিওতে শেয়ার করতে পারেন। রান্নার ভিডিওগুলো ইউটিউবে প্রচুর পরিমাণে ভিউস হয়।

আপনি রান্না করতে পারেন তারপরও সমস্যা নাই। আপনি চাইলে রাস্তার বিভিন্ন খাবার এর ভিডিও করে ইউটিউবে আপলোড করতে পারেন। এই ভিডিওগুলো প্রচুর পরিমাণে ইউটিউবে ভিউস হয়। রাস্তার খাবারের ভিডিও করে অনেক ইউটিউবার কোটি কোটি টাকা ইনকাম করছে।

মাছের ভিডিও

মাছের ভিডিও ইউটিউবে প্রচুর পরিমাণে দর্শকরা দেখে থাকেন। আমি ইউটিউবে অনেক নতুন চ্যানেল এর ভিডিওতে দেখেছি মাছের ভিডিও গুলিতে কোটি কোটি ভিউস।

পুকুরে, নদীতে মাছ ধরার দৃশ্য ভিডিও করে আপনি ইউটিউব চ্যানেলে আপলোড করতে পারেন। বিশ্বাস না হলে ইউটিউবে গিয়ে মাছের ভিডিও গুলো দেখুন আপনি কি পরিমান ভিউ হচ্ছে। অল্প সময়ে দ্রুত ইউটিউব চ্যানেল থেকে ইনকাম করতে চাইলে আপনি এই বিষয়টি বেছে নিতে পারেন।

আপনার যদি কোন দক্ষতা না থাকে আপনি এই বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবি ভিডিও বানাতে পারেন আমি আপনাকে সাজেশন দিলাম।

ইউটিউব মনিটাইজেশন (YouTube Monetization)

ইউটিউব মনিটাইজেশন হচ্ছে ইউটিউব ভিডিওতে গুগল এডসেন্স ব্যবহার করে টাকা ইনকাম করা। ইউটিউব মনিটাইজেশন বর্তমানে একটু কঠিন হয়ে গেছে আগের তুলনায় ইউটিউব মনিটাইজেশন পাওয়ার ক্ষেত্রে। ইউটিউব মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য আপনার ইউটিউব চ্যানেলের কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।

ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন পাওয়ার জন্য শর্ত গুলো হচ্ছে,

  1. ইউটিউব চ্যানেলে গত এক বছরে 1,000 সাবস্ক্রাইবার হতে হবে।
  2. ইউটিউব চ্যানেলের গত এক বছরে সকল ভিডিও মিলে 4000 ঘন্টা ওয়াচ টাইম হতে হবে।
  3. ইউটিউব এর নিয়ম নীতি অনুযায়ী ইউটিউব মনিটাইজেশন পাওয়ার যোগ্যতা থাকতে হবে।

কিভাবে মনিটাইজেশনের জন্য আবেদন করবেন? (How To Apply For YouTube Monetization)

আগেই বলে রাখি, উপরের দেওয়া শর্তগুলো পূরণ করার পরেই আপনার ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন অপশনটি দেখতে পাবেন। যখন আপনার চ্যানেল মনিটাইজেশন অপশন আসবে তখনই আপনি মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এর আগে আপনি ইউটিউব চ্যানেলের জন্য মনিটাইজেশন জন্য আবেদন করতে পারবেন না।

  • আপনার চ্যানেলের মনিটাইজেশন চালু করার জন্য চ্যানেল আইকনে ক্লিক করুন।
  • তারপর “Creator Studio” তে ক্লিক করুন।
  • তারপর “Channel” এ ক্লিক করুন।
  • তারপর “Monetarization” এ ক্লিক করুন।
  • এখন মনিটাইজেশন পেজে আপনি চারটি অপশন দেখতে পাবেন। এ চারটি অপশন ভালো ভাবে পূরণ করে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য মনিটাইজেশন এর জন্য আবেদন করে ফেলুন।
  • দুই নাম্বার অপশনে আপনার ইউটিউব চ্যানেলের জন্য একটি এডসেন্স অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।

আপনার ইউটিউব ভিডিওতে অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট থেকে এড দেখানোর মাধ্যমে আপনার ইনকাম হবে। ১০০ ডলারের কম গুগল অ্যাডসেন্স পেমেন্ট দেয় না। আপনার গুগল অ্যাডসেন্স অ্যাকাউন্ট ১০০ ডলার হওয়ার পরে আপনি টাকা উত্তোলন করতে পারবেন।

ইউটিউবের টাকা কিভাবে হাতে পাবেন? (How To Get YouTube Payment)

এতক্ষণ তো ইউটিউব থেকে কিভাবে টাকা আয় করবেন এ বিষয় নিয়ে আলোচনা করলাম। এখন আসি কিভাবে ইউটিউব এর টাকা আপনি হাতে পাবেন।

আপনি যদি গুগল এডসেন্স ব্যবহার করুন ইউটিউব থেকে আয় করেন, তাহলে আপনি খুব সহজে গুগোল অ্যাডসেন্সে ব্যাংক একাউন্ট এড নামে একটা অপশন আছে, সেখানে আপনার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট যুক্ত করে খুব সহজেই গুগল অ্যাডসেন্সের তুলতে পাবেন।

গুগল অ্যাডসেন্সের টাকা সাধারণ ২১ বা ২২ তারিখে ব্যাংকে পাঠিয়ে থাকে। কিন্তু এই টাকা আপনার হাতে পেতে ০২ থেকে ০৭ দিন সময় লাগতে পারে। এটা ব্যাংক অনুযায়ী হতে পারে। কিছু ব্যাংক দ্রুত টাকা দেয় আবার কিছু ব্যাংকে টাকা দিতে একটু দেরি করে।

আপনি যদি ইসলামী ব্যাংক এ অ্যাকাউন্ট তৈরি করে আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্টে যোগ করেন তাহলে আপনি খুব দ্রুত ইউটিউব এর টাকা হাতে পেয়ে যাবেন।

তাই আপনাকে আমি পরামর্শ দিব আপনি যদি ইউটিউব এর টাকা খুব দ্রুত হাতে পেতে চান তাহলে আপনার গুগল এডসেন্স একাউন্টে ইসলামী ব্যাংক একাউন্ট যোগ করে নিবেন।

ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার উপায় (How To Earn From YouTube Channel)

ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা আয় করা অনেকগুলো উপায় রয়েছে যেগুলো ব্যবহার করে আপনি আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। তো আমরা কিছু জনপ্রিয় মাধ্যম নিয়ে আলোচনা করবো যেগুলো ইউটিউব চ্যানেল থেকে আয় করার জন্য বেশি ব্যবহৃত হয় আমাদের দেশে অন্যান্য দেশে।

এফিলিয়েট মার্কেটিং

অনেকেই ভেবে থাকেন অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং শুধু ওয়েবসাইটের মাধ্যমে হয়ে থাকে। কিন্তু ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইন থেকে টাকা আয় করা যায়। অনেকে শুধুমাত্র এফিলিয়েট মার্কেটিং ইউটিউব চ্যানেল এর মাধ্যমে করে থাকে। এবং তারা অনলাইন থেকে ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করছে ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে।

আপনিও চাইলে এফিলিয়েট মার্কেটিং সম্পর্কিত ইউটিউব ভিডিও তৈরি করে আপনার ইউটিউব চ্যানেল থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে অনলাইনে আয় করতে পারেন।

আমরা পরবর্তী সময়ে ইউটিউব চ্যানেল থেকে এফিলিয়েট মার্কেটিং করে কিভাবে অনলাইনে টাকা ইনকাম করা যায় এই বিষয়ে একটি ভিডিও তৈরি করব।

নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি

আপনার নিজের ইউটিউব চ্যানেলে আপনার নিজেরই প্রোডাক্ট বিক্রি করে ইউটিউব থেকে টাকা আয় করতে পারেন। বাংলাদেশে এমন কয়েকটি ইউটিউব চ্যানেল রয়েছে যারা শুধুমাত্র নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য ইউটিউব চ্যানেল তৈরি করেছে এবং সফলতার সাথে তারা ব্যবসা করে যাচ্ছে।

আপনিও নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করার জন্য একটি ইউটিউব চ্যানেল খুলতে পারেন এবং আপনার নিজের প্রোডাক্ট বিক্রি করে অনলাইনে টাকা ইনকাম করতে পারেন ইউটিউব চ্যানেলের মাধ্যমে।

ইউটিউব চ্যানেল বিক্রি করে

ইউটিউব চ্যানেল বিক্রি করেও আপনি অনলাইন থেকে টাকা ইনকাম করতে পারবেন। অবশ্যইআপনার ইউটিউব চ্যানেলটিতে মনিটাইজেশন থাকতে হবে। সাধারণত মনিটাইজেশন ইউটিউব চ্যানেল গুলো বিক্রি হয়ে থাকে।

কিছু বিষয় রয়েছে যেগুলো বিষয়ে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করুন খুব অল্প সময়ে ইউটিউব মনিটাইজেশন পাওয়া যায়। আপনি এরকম বিষয় নিয়ে ইউটিউবে ভিডিও তৈরি করে ইউটিউব চ্যানেল মনিটাইজেশন নিয়ে ইউটিউব চ্যানেল বিক্রি করে অনলাইনে টাকা আয় করতে পারেন।

আমার পরিচিত অনেকেই এই কাজটি করে। এবং তারা ভালো পরিমাণ টাকা ইনকাম করছে।

ইউটিউব চ্যানেল থেকে কত টাকা আয় করা যায়?

একটা ইউটিউব চ্যানেল থেকে কত টাকা আয় করা যায় এর কোনো নির্দিষ্ট সীমা নেই। অনেকেই একটি ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে কোটিপতি হয়ে গিয়েছে। এরকম অনেক ব্যক্তি রয়েছে বাংলাদেশেই।

আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও যদি প্রতিদিন ১,০০০ ভিউ হয় তাহলে আপনি ০.৫০$ থেকে 0.1$ পাবেন। তবে জায়গাভেদে এরারুট পার্থক্য হতে পারে। আপনার ইউটিউব চ্যানেলের ভিডিও যদি উন্নত দেশের ভিউ হয় যেমন: আমেরিকা, লন্ডন, কানাডা তাহলে আপনার ইনকাম এর তুলনায় অনেক গুন বেড়ে যাবে।

আর বড় কথা হচ্ছে আপনি যদি ইউটিউবে নিয়মিত ভিডিও আপলোড করে থাকেন। তাহলে আপনার ইউটিউব চ্যানেলটি দিন দিন বড় হতে থাকবে। সেই সাথে আপনার ইনকাম দিন দিন বৃদ্ধি পেতে থাকবে।

শেষ কথা,

আপনি যদি দর্শকের চাহিদা পূরণ করতে পারেন। তাহলে ইউটিউবে টাকা ইনকাম ( Earn From YouTube) নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। ইউটিউব এর টাকা আপনার পেছনে ছুটবে। তাই ইউটিউবে সফলতা পেতে চাইলে অবশ্যই আপনাকে কোয়ালিটি ইউটিউব ভিডিও তৈরি করতে হবে।

আমাদের এই আর্টিকেলটি “ইউটিউব থেকে আয়” কেমন লাগলো আপনি কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published.

Scroll to Top